প্রচ্ছদ / ভোগান্তি / ফেসবুক হ্যাক করে যেভাবে হচ্ছে চাঁদাবাজি!

ফেসবুক হ্যাক করে যেভাবে হচ্ছে চাঁদাবাজি!

fb

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে বন্ধুদের কাছ থেকে বিপদের কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। সম্প্রতি সামসুল আরিফিন বনি নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে তার বন্ধুদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় হ্যাকার মনসুর ইবনে কামাল।

পরে সেই হ্যাকারকে গ্রেফতার করে ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এরপরই বেড়িয়ে আসে মূল ঘটনা।

জানা যায়, তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হ্যাকার মনসুর ইবনে কামাল মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করছে। দীর্ঘদিন থেকেই এই জ্ঞানকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মানুষের কাছ থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশি-বিদেশি একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত মনসুর। এ বিষয়ে তদন্ত করছেন কাউন্টার টেররিজম ডিভিশনের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা।

ঘটনাটি গত ২০ সেপ্টেম্বরের। ওই দিন সকালে ফেসবুক লগ ইন করতে গিয়ে ব্যর্থ হন সামসুল আরিফিন বনি। এর আগেই হ্যাকার মনসুর ওই একাউন্ট হ্যাক করে তার বন্ধুদের কাছে বিভিন্ন অংকের টাকা সাহায্য চান। ‘দোস্ত, একটু হেল্প লাগবে। জরুরি। আমার ১৪ হাজার টাকা দরকার এক্ষুণি। পাঠাতে পারবি?’ এই মেসেজের পরই একটি বিকাশ নম্বর দেন মনসুর।

এদিকে হঠাৎ বন্ধু সামসুল আরিফিন বনির এরকম মেসেজ দেখে বিপদের কথা চিন্তা করে সাত-পাঁচ না ভেবেই টাকা পাঠান বনির দেয়া বিকাশ নম্বরে। একইভাবে বনির একাউন্ট থেকে টাকা খুঁজেছে আরেক বন্ধু রাজীব আল মাসুদের কাছে। রাজীব লিখেছেন, ‘ঠিক আছে নিয়ে যা’। প্রতিউত্তরে বনি লিখেছেন, ‘দূরে আছি। বিকাশ কর। ’ এরপর বিকাশ করে বনিকে টাকা পাঠান রাজীব।

এরই মধ্যে একে একে ফোন পান বনি। বন্ধু সালাহউদ্দিন, মফিকুল, ডা. পাশাসহ অনেকে ফোনে জানতে চান টাকা পাঠাবেন কি-না। একই সময়ে তার বন্ধু রাজীব আল মাসুদ ফোনে জানান, তিনি বিকাশে টাকা পাঠিয়েছেন। একইভাবে টাকা পাঠিয়েছেন শাহরিয়ারসহ বনির অনেক বন্ধু-স্বজন। বনি চমকে উঠেন। তিনি কারও কাছে টাকা চাননি এবং টাকা পানওনি। ততক্ষণে বুঝতে বাকি নেই বনির আইডি হ্যাক করে হ্যাকারই ঘটাচ্ছে এই কাণ্ড! এরই মধ্যে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বনির বন্ধুদের কাছ থেকে। গত ২৩শে সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন বনি।

এরপর বিকাশ নম্বরের সূত্রধরে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের নির্দেশনায় তদন্তে নামেন এই ইউনিটের সদস্যরা। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে  গ্রেপ্তার করা হয় মনসুর ইবনে কামালকে। এসময় তার কাছে তখন পাঁচটি মোবাইলের সিম (বিকাশ অ্যাকাউন্ট) পাওয়া যায়।

পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, টার্গেটকৃত ব্যক্তির ফেসবুকের ইনবক্সে ও কমেন্টে ম্যালওয়ার ব্যবহার করে মনসুর। এতে ক্লিক করলেই ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চলে যায় তার কাছে। এভাবেই ফেসবুক হ্যাক করতো মনসুর। দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক হ্যাক করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আদায় করছিল সে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

About arthonitee

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *