প্রচ্ছদ / মতামত / মুকসুদপুর সংবাদ পরিবারের নৌকা ভ্রমণ – ঘুরে এলাম চান্দারবিল

মুকসুদপুর সংবাদ পরিবারের নৌকা ভ্রমণ – ঘুরে এলাম চান্দারবিল

Meher Mamun-Nouka Brohmon photo-14.08.17

মেহের মামুন ও মেহবুবা অন্তু: নৌকা ভ্রমণ সকলেরই প্রিয়। এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্ট যে নৌকা ভ্রমণ করতে চায় না। বর্ষাকাল শেষ হয়ে -শরৎ এর মাঝামাঝি সময় চলছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা। মেঘ-বৃষ্টির সঙ্গে পেঁজা তুলোর মেঘ ভাসা নীলাকাশ। বর্ষার সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান। আরেক টান আমাদের নদীর সঙ্গে। বর্ষায় নদী পূর্ন যৌবনবতী। এই সময় নৌকায় চড়ে নদী, খাল, বিল ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। এমন এক বৃষ্টিভেজা দিনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মুকসুদপুর সংবাদ পরিবার নৌকা ভ্রমণ করেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে বিলম্বিত যাত্রা শেষে নৌকা ভ্রমণের উদ্দেশে মুকসুদপুর সংবাদ কার্যালয় থেকে ইজিবাইক যোগে উজানী যাওয়া হয়। মুকসুদপুর সংবাদ কর্মী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ২৫ জনের একটি দল যখন উজানী বাজারে পৌছালো তখন আমাদের উজানী প্রতিনিধি বাবু মোল্যা সাদরে গ্রহণ করেন। ওই সময় চা বিস্কিট, চানাচুর, পটেটো ক্রের্কাস যে যার মত নিয়ে গুছালো। ওখানেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মুকসুদপুর সংবাদের দীর্ঘদিনের শুভাধ্যায়ী, বিশিষ্ট মৎস চাষী, উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ গোলাজার হোসেন, তার ঘনিষ্ট বন্ধু হাদিউজ্জামান পানা মোল্যা এবং শুধু মুকসুদপুর নয় সারা গোপালগঞ্জের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবারের অন্যতম সদস্য মনজু তালুকদার। প্রাথমিক আপ্যায়ন শেষেই তাদের নিয়েই উজানী বাজার ব্রিজ এর থেকে নৌকা যাত্রা শুরু। উজানী মুকসুদপুর উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ এলাকা। এখানকার রাজবাড়ীর সুনাম সারা দেশে। এখানেই অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহৎ চান্দারবিল, তার পাশে আরো আছে বড় বিল, বহুগ্রাম বিল। এখানে নৌকা ভ্রমনের মজাই অন্য রকম। বর্ষা আর শরতে এই সময়ে কিছুক্ষণ পরপর চমৎকার চমৎকার ভ্রমনের নৌকা অহরহ চোখে পড়ল। মুকসুদপুর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি আবু এম ফারুকের দেশী মাছের ঘেরের মধ্য দিয়ে আমাদের নৌকা চলতে শুরু করল। এক সময় উজানী ডিগ্রী কলেজের পাশ দিয়ে নৌকা চলার দশ মিনিট পর আমরা প্রথমে পৌছালাম উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ গোলজার হোসেনের মাছের ঘেরে। সেখানে পৌছানোর পর প্রথমে প্রায় ৫০ বিঘা মৎস ও এগ্রো প্রজেক্ট ঘেরের চারপাশ ঘুরিয়ে লাগান পেপে গাছ থেকে পাকা পেপে পেয়ারা সকলে আনন্দ সহকারে খাওয়ার পর ঘেরের মাছ দেখলাম। ভাদ্রের ক্ষরা রোদের মধ্যে গাছ থেকে পাকা পেপে, পেয়ারা যেন আমাদের কাছে অমৃতসম স্বাদ পেলাম। প্রায় ২ বস্তা কাচা ও পাকা পেপে সংগ্রহ করে আমাদের নৌকায় উঠলাম। এখানে প্রায় একঘন্টা অবস্থান শেষে আবারও নৌকায় উঠলাম সকলে। নৌকা বহুগ্রাম বড় বিলের মধ্য দিয়ে চলতে লাগল। এখানে নদীতে বেড়াতে আসা মানুষের ভীড় চোখে পড়ার মত। উচ্ছাসে ভরা বহুগ্রাম বড়বিলের সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। পানকৌড়ির দল আর ছুটে চলা মাছরাঙা অতিমনোহর। চলতি পথে অনেক ভেসাল দৃশ্যমান হল। আর জাল নিয়ে ছুটে চলা একদল শিশু-কিশোর। ছোট ছোট তালগাছের তৈরি ডোঙ্গায় করে অনেকে মাছ ধরছেন। ছোট ছোট নৌকায় করেও অনেকে পাতা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছে। অনেক শিশু কিশোর কলাগাছের ভেলায় করে শাপলা তুলছে। আবার অনেক শ্রমিক শাপলা তুলছে বাজারজাত করার জন্য। নয়ানভিরাম শাপলা ফুটে আছে পানিতে। দেখতে দেখতে চলছে আমাদের নৌকা। আসলে কি রেখে কি বলি, সঙ্গে পিকনিকের নৌকা তো ছিল অনেক। ওই নৌকা থেকে স্পিকারে হিন্দি গান আর উদ্ভট নাচ বাজছে, মনে হল পরিবেশটাই নষ্ট করে দিচ্ছে, তবুও ওরা করছে আনন্দ !। দুপুর গড়িয়েছে পেটের ক্ষুধা নিবৃত করতে সম্পাদক হায়দার হোসেন সকলকে জানালেন কয়েকমিনিট পরই আমরা পৌছাব বহুগ্রাম বড়বিলের মাঝে অবস্থিত মনজু তালুকদারের মাছের ঘের, সেখানেই আমাদের দুপুরের খাবারের আয়োজন হয়েছে। নৌকা থেকে নামার পর সকলেই আশ্চর্য হল। এত্ত বড় বিলের মাঝ খানে এতো সুন্দর একটা মাছের ঘের, আবার সুন্দর একটা দ্বিতল ভবন। এফএস ফিসাজির কর্ণধার মনজু তালুকদারের বিশাল মৎস চাষের দ্বীপ ঘেরের ভেতরে ঢোকা মাত্রই চোখে পড়ল রান্নার ধোয়া উড়ছে আকাশে। সামনে যেতেই দেখা গেল ডিম ভুনা শেষ, চলছে খিচুড়ী রান্না, বাবুর্চি স্বয়ং এফএস ফিসাজির কর্মকর্তা নাহিদ হাসান নাছিম, তিনিই রান্না করলেন এবং নিজ হাতে আপ্যায়ণ করলেন । শুধু ডিম খিচুড়ীই নয় – এর সাথে আছে ঘের থেকে তরতাজা রুই মাছ, তেলাপিয়া মাছ এবং শরপুঠি মাছ ভাজা। পরম তৃপ্তির সাথে দুপুর খাওয়াটা শেষ করে সকলে মিলে ছোট ছোট দল মিলে বেশ কিছুক্ষন ১শ ৪ বিঘা বিশাল মাছের ঘের ঘুরে ঘুরে মাছের আবাস দেখাহলো। প্রখর তাপের সুর্য যখন পশ্চিমে হেলে কিছুতা তাপ কমে আসলো তখনই সবাই মিলে আবারও নৌকায় উঠলাম। দেশের ঐতিহ্যবাহী চান্দারবিল দেখছি। চোখ জুড়ানো সব দৃশ্য। এরমধ্যে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল। তারপর হালকা ও উপভোগ্য ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে বাতাসের তীব্রতা। একটু পরই আকাশ থেকে মেঘ সরতে শুরু করলে আমরাও ফেরার পথ ধরলাম। কিছুক্ষণ পরেই পৌছে গেলাম কাঙ্খিত লক্ষ্যে। সব মিলিয়ে দিনটি ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ও আনন্দঘণ। বিশাল জলরাশি এর মধ্যে দ্বীপের মতো ঘের, তার মধ্যে মাছ চাষ। জনমানবহীন দ্বীপ, যেখানে এই ডিজিটাল যুগেও অনেককিছু পৌরানিক আমলের। তারপরেও কোন অভাব হয়নি কোন কিছুরই। এফএস ফিসারিজ কর্মকচারি- কর্মকর্তারা মুকসুদপুর সংবাদ পরিবারের আপ্যায়নের জন্য ছিল আন্তরিক তৎপর। সত্যিই তাদের আতিথিয়েতা মুগ্ধকরছে সবাইকে। ভুলেই গেছি সেখান থেকে বস্তা ভরে মাছ আনতে কিন্তু আমরা ভুল করলেও ফিসারিজ কর্মকর্তা বস্তা ঘাড়ে করে নৌকা অব্দি পৌছে দিয়েছেন। ফিসারিজ থেকে যতদুর নৌকা দেখা গেছে ততদুর পর্যন্ত ঘাটে থেকে বিদায় জানিয়েছে আবারও যেন তাদের আমারা দেখতে যাই সেই আহবান রেখেছে পরম বন্ধুত্বের প্রত্যাশায়।

About arthonitee

Check Also

salahuddin

পদ্মা সেতু অর্থনীতির জন্য বয়ে আনবে আশীর্বাদ

ডক্টর শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ : স্বপ্নের পদ্মা সেতু অবশেষে ডানা মেলতে শুরু করেছে। গত শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *