প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / গনপূর্ত বিভাগের দুর্র্নীতিবাজ কর্মকতাদের যোগসাজস (পর্ব-১): মাদারীপুর সদর মডেল থানা স্টাফ কোয়াটার নির্মান কাজ অসমাপ্ত রেখে সম্পুর্ন বিল তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার

গনপূর্ত বিভাগের দুর্র্নীতিবাজ কর্মকতাদের যোগসাজস (পর্ব-১): মাদারীপুর সদর মডেল থানা স্টাফ কোয়াটার নির্মান কাজ অসমাপ্ত রেখে সম্পুর্ন বিল তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার

এসএম আরাফাত হাসান (স্টাফ রিপোর্টার)
৮ বছর আগে মাদারীপুর সদর মডেল থানা স্টাফ কোয়াটার নির্মান কাজ অসমাপ্ত রেখে পিডব্লিউডি (গনপূর্ত) বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় সম্পুর্ন বিল ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার । দোতালা এই ভবনের ৮টি ইউনিট নির্মানকাজ সম্পূর্ন হয়েছে দেখিয়ে ঠিকাদারকে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে নির্মান কাজ শেষ হয়নি। বাইরে থেকে নির্মান কাজ শেষ হয়েছে কিছুটা বোঝা গেলেও ভীতরের দরজা, জালানা,গ্রীল, বাথরুম ফিটিংস, বৈদ্যুতিক লাইন পানি ও পয় নিস্কাষনের কোন কাজই করা হয়নি। যে কারনে এই ভবনের ৪টি কেয়াটারে থাকার জন্য বরাদ্ধ প্রদান সম্ভব হয়নি। ফলে ৮ বছর ধরে খালি পরে থাকায় সরকারের গচ্ছা গেছে কোটিরও বেশি টাকা। এছাড়া ৮বছর ধরে খালি পড়ে থাকায় ভবনটি এখন এমনিতেই প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।
গনপূর্ত বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে মাদারীপুর সদর থানার ৮শ বর্গফুট কোয়টার নীচতলা ৪ ইউনিট ও ২ ইউনিট দোতালা ভবন নির্মান কাজ পায় ঠিকাদার সৈয়দ নুরুল হক। গনপূর্ত বিভাগের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় ৪তলা ভিত্তি (১৭৮২.৫০ বর্গফুট) যার প্রক্কলিত ব্যায় ধরা হয়েছে ৪ লক্ষ ১২ হাজার টাকা,নীচতলা এপ্রোন, ড্রেন ও কলাপবিল গেটসহ ১৭৮২.৫০ বর্গফুট নির্মান ব্যায় ১০ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, দোতালা ১৭৮২.৫০ বর্গফুট, নির্মান ব্যায় ধরা হয়েছে ৯ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা,তিনতলা চিলাকোঠা ১৮২.৫০ বর্গফুট,নির্মান ব্যায় ৯৯ লক্ষ টাকা, জলছাদ,কার্নিস ও প্যরাপেট (র্৩ -র্র্র্০র্ ) ব্যায় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা, আরসিসি পানির ট্যাংক (১৬০০ গ্যালন) যার নির্মান ব্যায় ৮৮ হাজার টাকা, আভ্যন্তরীন পয় প্রনালী ও পানি সরবরাহ বাবদ ব্যায় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীন বিদ্যুতায়ন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা, বিটুমিনাস কার্পেটিং রাস্তা ১২০০ বর্গফুট যার ব্যায় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা সর্বমোট বরাদ্ধ- ৩৩ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। গনপূর্ত বিভাগ পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়নে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বললেও অন্যান্য কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে বলে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করে দিয়েছে। কিন্ত সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে পানির ট্যাংকি,অভ্যন্তরীন বিদ্যুতায়নএর কোন কাজই করা হয়নি এছাড়াও বাথরুমের দরজা জালনা,ফিটিংস,গ্রীলসহ কোন রুমেরই দরজা জালানা লাগানো হয়নি। শুধু বাইরের গ্রীল বাইরের দুটি দরজা লাগানো হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জিয়াউল মোর্শেদ জানান,সদর থানা স্টাফ কোয়াটারের নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় এ পর্যন্ত কোন কর্মকর্তাকে তা বরাদ্ধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরাদ্ধ দেওয়া হলে গত ৮ বছরে সরকারের কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হতো। আর বসবাস উপযোগী হলে বিল্ডিংও ভালো থাকতো। ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হলেও কি করে ঠিকাদারকে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করা হলো তা বুঝা যাচ্ছে না। এব্যপারে ব্যাক্তিগতভাবে তিনি গনপূর্ত বিভাগে গিয়ে এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গনপূর্ত বিভাগকে বার বার জানানোর পরও গনপূর্ত বিভাগ এ ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।

About arthonitee

Check Also

Copy of Atiar mia Mayor copy

আতিকুর রহমান মিয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত

সরদার মজিবুর রহমান (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুর রহমান মিয়া (নৌকা) বিপুল ভোটের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *