প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য / কিডনী রোগ নিরাময়ে হার্বস‍ই কার্যকর

কিডনী রোগ নিরাময়ে হার্বস‍ই কার্যকর

কিডনি ফাউন্ডেশনের জরিপে থেকে দেখ‍া গেছে, বাংলাদেশের দুই কোটির বেশী মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে।‍ এর মধ্যে ৪০ হাজারের কিডনি পুরোপুরি অকেজো হচ্ছে প্রতিবছর। এ ধরনের রোগীর জন্য ডায়ালাইসিস (যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কিডনির কাজ করানো) কিংবা কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা ছাড়া ভিন্ন কোন ব্যবস্থ্যা নেই। কিন্তু এই দুটো চিকিতসা পদ্ধতিই ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালগুলোতে একবার ডায়ালাইসিস করাতে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিজেদের মতো করে তারা নির্ধারণ করে থাকে। এসব হাসপাতালে একবার ডায়ালাইসিস করাতে সাড়ে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিডনি অকেজো হওয়া একজন রোগীকে সপ্তাহে দুই বা তিনবার পর্যন্ত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, ব্যয়ের বিষয়টা যেমন আছে, তেমনি কিডনি রোগের শেষ অবস্থার রোগীদের জন্য দেশে ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের সুবিধাও এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বছরে ৪০ হাজার রোগীর যে কিডনি বিকল হচ্ছে, তাদের সবার চিকিৎসা দিতে চাইলে মানসম্মত হানপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যাপ্তিটা বাড়ানো দরকার। এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে নতুন ৪০ হাজার রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেয়া এবং প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না।
চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনি রোগের উপসর্গ প্রথমে বোঝা যায় না। কিডনির অনেকটা ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত কোন উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে এই রোগের অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে, নেফ্রাইটিস বা প্রস্রাবের প্রদাহ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অতিমাত্রায় ব্যাথানাশক ঔষধ প্রয়োগ করা এবং খাদ্যাভাস। বংশগত বিষয়ও এই রোগের একটা কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, যে সব রোগের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সে সব রোগে আক্রান্তরা নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করান না। আর মানুষ এখনও সেভাবে সচেতন হয়ে উঠেনি বলে তারা মনে করেন। অধ্যাপক সারোয়ার ইকবাল বলেন, একেবারে শেষপর্যায়ে কিডনি অকেজো হওয়ার পর বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসকের কাছে যান। “কি কারণে কিডনি রোগ বেশি হয়, সেটা মানুষের জানা উচিত। ডায়াবেটিসসহ যে সব কারণে বেশি হয়, সেগুলো কিন্তু প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
প্রতিবার ডায়ালাইসিস করার জন্য বড় অংকের অর্থ গুণতে হয়। এর সাথে তুলনা করলে কিডনি প্রতিস্থাপন বা সংযোজন করার ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কম বলে চিকিৎসকরা বলছেন। তাদের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে কিডনি পাওয়াটা বেশ কঠিন। কিডনি প্রতিস্থাপন আইন কিছুটা শিথিল করে একজন রোগীর বাবা-মা ভাই বোনের পাশাপাশি চাচাতো ভাইবোনের কিডনি দেয়ার ব্যবস্থা আনা হয়েছে। একইসাথে হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় থাকা ব্যক্তির কিডনি নেয়ার বিধানও করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা কিডনি প্রতিস্থাপন ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক মো: আব্দুস সালাম বলেন, আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হলেও বাংলাদেশে এখনও মৃত্যুশয্যায় থাকা ব্যক্তির কিডনি পাওয়ার মতো পরিবেশ হয়নি। মৃত ব্যাক্তির কিডনি নেয়ার কথা আইনে থাকলেও আমরা এখনও এটা করতে পারি নি। মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষ এখনও এটার জন্য প্রস্তুত নন। আইসিইউ’তে যে সব রোগীরা থাকে, একটা পর্যায়ে তাদের ব্রেন ডেড হয়ে যায়। তখন তার আর বেঁচে থাকার কোন সম্ভবনাই থাকে না। এমন কন্ডিশনে আমরা কিডনি নিতে পারি। কয়েক মাস আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা সেন্টারে বিদেশী টিমসহ আমরা চেষ্টা করেছিলাম যে, কোন একটা ব্রেন ডেড রোগীর আত্নীয় স্বজন যদি রাজি হয় কিডনি দিতে। কিন্তু কেউই রাজি হননি। ভবিষ্যতে এটা হলে হয়তো কিডনি পাওয়ার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে। কিডনি রোগের চিকিৎসার ব্যয় এবং সুযোগ সুবিধা কোনোটাই পর্যাপ্ত নয়।
প্রাচীনকালে ‍আমাদের দেশের জনসাধারণ হারবাল বা গাছ-গাছড়ায় ভরস‍া করতো। ইদানিংকালে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগী লোকজন যারা রাস্তার পাশে বসে গাছ-গাছড়ার নাম না জেনে না বুঝে মুখস্ত ওষুধ দেয়াতে হারবাল বা গাছ-গাছড়ায় মানুষের ভরসা ‍একদম তলানীতে। তাই যে দু’একজন বা প্রতিষ্ঠান ভালো ওষুধ দিতে পারতো তারাও রোগী না ‍আসায় ‍এসব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। হার্বস বিশেষজ্ঞ মোরশেদ চৌধুরীর মতে, ‍‘একটু ধৈর্য্য ধরে যদি কে‍উ হারবাল চিকিতসা নেন তবে কিডনী রোগও ‍আরোগ্য হয়।’ কথাটা তিনি বেশ জোরদিয়েই বললেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি কি ‍আদৌ কাউকে ভাল করেছেন। ‍এমন প্রশ্নের ‍উত্তরে তিনি জানান, তার হারবাল ওষুধ খেয়ে ‍একজন ভদ্র মহিল‍ার ক্রিয়েটিনিন ৮.৩ থেকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রনে ‍আসছে। অপর ‍একজন ডায়ালাইসিসের রোগীর ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন কমে ‍এসেছে। তার ভাষ্য, ‍একমাত্র হার্বস‍ই পারে ‍এই জীবন সংহারী রোগ নির্মূল করতে। ‍
মোরশেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে বা ‍আপনার কিডনী বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে ‍আগ্রহী ব্যক্তিরা ০১৭-৪৮৪৯-৩১৪৫ নং ‍এ কল করে ‍আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।

About arthonitee

Check Also

মাশরাফির অভিযোগ : বরখাস্ত সেই ৪ ডাক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর নড়াইল সদর হাসপাতালের সেই চার চিকিৎসককে এবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *