প্রচ্ছদ / ব্যাংক ও বীমা / সুইস ব্যাংক এর আদোপ্যান্ত

সুইস ব্যাংক এর আদোপ্যান্ত

মোঃ মোর্তুজা মিশু:

সুইস ব্যাংক” সম্পর্কে আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। মজার ব্যাপার হলে হলো ‘ সুইস ব্যাংক’ নামে আলাদা কোন ব্যাংক নেই। নরমালি সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক সব ব্যাংকি -ই সুইস ব্যাংক। যেমন টা বাংলাদেশি ব্যাংক, ভারতীয় ব্যাংক ঠিক তেমনি সুইস ব্যাংক। তবে আমরা বরাবরই ধারনা করে থাকি সুইস ব্যাংক হয়তো সুইডিশ কোন ব্যাংকের নাম যেখানে রাজনৈতিক ব্যাক্তি বা বিশ্বের বড় বড় ধনকুবেররা টাকা রাখে।

সুইস ব্যাংক কেন এতটা জনপ্রিয়?
” সাধারণত সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ব্যাংক অর্থাৎ যে ব্যাংকগুলির প্রধান শাখা সুইজারল্যান্ডে সেগুলোকেই সুইস ব্যাংকিং কর্পোরেশন বা সুইস ব্যাংক বলা হয়। সুইস ব্যাংকিং কর্পোরেশনে মোট ১৮ টি ব্যাংক আছে যার মধ্যে সব থেকে বিখ্যাত ৩ টি সুইস ব্যাংক হলো ইউবিএস, জুলিয়াস বার এবং ক্রেডিট সুইসি। আর সকল সুইস ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করে সুইস ফেডারেল ব্যাংকিং কমিশন।
টাকা-পয়সা, গোল্ড-ডায়মন্ড এসব ছাড়াও সুইস ব্যাংকগুলি কিন্ত তাদের ভোল্টে আরেকটা খুব দামি জিনিস রাখে। সেটা হলো “ডাটা” বা তথ্য। সুইস ব্যাংকগুলিকে “হ্যাভেন অফ অনলাইন ডাটা” বলা হয়। কারন পৃথিবীর কোন ডাটা সেন্টারে এতো সিকিউরিটি নাই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডাটা ভোল্টগুলি সুইস ব্যাংকে।

সুইস ব্যাংকে গোপনীয়তা বা নিরাপত্তা কেমন?
সুইস ব্যাংক নিরাপত্তা বা গোপনীয়তার বিষয়টি খুব জোরালো ভাবে দেখে যেটা পৃথিবীর কোথাও সম্ভব নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেকোনো সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য পেতে পারেন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের ব্যবস্থাটাই এমন। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুইস ব্যাংকগুলো তার গ্রাহকের গোপন তথ্য গোপন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুইস আইন অনুসারে একজন ব্যাংকার কখনোই কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেন না শুধুমাত্র কয়েকটি পরিস্থিতি ব্যতীত। এমনকি কারোর ঐ ব্যাংকে একাউন্ট আছে কিনা, সে বিষয়েও মুখ খুলতে পারেন না কোনো ব্যাংকার। সুইস কোনো ব্যাংক আপনার গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে আপনি সে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থায় যেতে পারবেন। যদি আপনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে একজন ব্যাংকারের সর্বোচ্চ ৬ মাস জেল হতে পারে এবং তার সাথে হতে পারে ৫০,০০০ সুইস ফ্রাঙ্ক অর্থদণ্ড। অর্থাৎ, আপনার গোপনীয়তা রক্ষার জন্যই হোক কিংবা নিজেদেরকে জেলে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্যই হোক, একটি সুইস ব্যাংক তার গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এক পায়ে খাড়া থাকে। সুইস ব্যাংকের একাউন্টের প্রাইভেসির উপর ভিত্তি করে বেশ কিছু ভাগ আছে। অবশ্যই হাই কনফিডেন্সিয়াল সুইস একাউন্টে নরমালি কোন নাম থাকে না। নামের পরিবর্তে একটা কোড থাকে। বাহিরের কারো বোঝার কোন উপায় নেই এই একাউন্ট কার। আপনি সম্পূর্ণ নিজের পরিচয় গোপন রেখে টাকা জমা এবং আদান-প্রদান করতে পারবেন। একমাত্র সুইস ব্যাংকের খুব উচ্চপদস্থ কয়েকজন আপনার পরিচয় জানবে আর কেউ না।

বর্তমান বিশ্বে কালো টাকার মালিক বা বড় বড় ধনকুবেররা সুইস ব্যাংকে প্রতি ঝুকছেন। তবে বলে রাখা ভালো এখানে কিন্তু অামার অাপনার মতো সুইজারল্যান্ডের সাধারন জনগনও একাউন্ট করতে পারে। এটা ভাবার কোন কারন নেই যে সুইস ব্যাংক শুধু স্মাগলার বা ধনকুবেরদের জন্য।সুইস ব্যাংকে সবাই টাকা রাখতে চাওয়ার কিছু কারণ আছে। সুইস ফ্রাষ্ক এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে স্থায়ী মুদ্রা যার দর সহজে ওঠানামা করেনা। সব মিলিয়ে সুইস ফ্রাঙ্ক এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি যার মান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। তাচাড়া সুইস ব্যাংকের ভোল্টগুলো খুবি সিকিউরড।সুইস ব্যাংকের ভল্টের দরজাগুলো এক একটা টোটাল আড়াই ফিট ১১ টি স্টিলের লেয়ার দিয়ে বানানো, ওজন প্রায় ২৫ টন। খুব হাই গ্রেডের স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলোতে নরমাল কোন ম্যাসিন দিয়ে কাটিং বা ড্রিলিং সম্ভব নয়। টাকার মানের স্থায়ীত্ব, গোপনীয়তা এসব বিষয় বিবেচনা করেই মূলত ধনীরা তাদের টাকার নির্ভরযোগ্য অাশ্রয়স্থল হিসেবে সুইস ব্যাংকগুলোকে বিবেচনা করে।

(মোঃ মোর্তুজা মিশু: ব্যাংকার ও লেখক)

About arthonitee

Check Also

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধার আবেদনের সময় বাড়ল

ঋণখেলাপিদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিতে নতুন করে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *