প্রচ্ছদ / ব্যাংক ও বীমা / একটি পরিচ্ছন্ন এজিএম

একটি পরিচ্ছন্ন এজিএম

অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ মাইন উদ্দীন: 

আমি এ বছর যে কয়েকটি এজিএম এ উপস্থিত হয়েছি এদের মধ্যে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর এজিএম আমার কাছে পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। কারন এখানে সবকিছু ছিল শেয়ার হোল্ডারদের জন্য সরাসরি প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে উম্মুক্ত। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন মরহুম আলহাজ¦ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ছিলেন একাধারে একজন পেশাজীবি, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। চট্টগ্রাম-৩ আসন থেকে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সমাজসেবক এবং একজন জনদরবী নেতা। তিনি দ্বীপ বন্ধু হিসেবে সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৩ এ বেশ পরিচিত। তিনি ২০০০ সালে রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত করেন। ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০০০ সালে তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বর্ষিয়ান সাংসদ এবং বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ জনাব তোফায়েল আহমেদ, এমপি কোম্পানীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী পুঁজি বাজারে তালিকাভূক্ত হয় ২০০৯ সালে। এটা পুঁজি বাজারে A-ক্যাটাগরীভূক্ত কোম্পানী। ৩১ আগষ্ট, ২০১৯ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী মোট শেয়ারের ৫৬.৭% সাধারণ জনগণ, ৩.০৫% বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট, ৮.৭৮% প্রতিষ্ঠানিক শেয়ার, উদ্যোক্তরা পরিচালকবৃন্দের নিকট রয়েছে ৩১.৪৭% শেয়ার। কোম্পানীর পরিশোধিত মূলধন ২৮ কোটি ৮৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৮০ টাকা। অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭ শত ৪৮টি। ৩০ জুলাই, ২০১৯ইং তারিখে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির ১৬৫ তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ২০১৮ সালের সমাপ্ত বছরের জন্য নগদ ১২% লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশের ভিত্তিতে ২৬ সেপ্টেম্বর’১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানীর ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নগদ ১২% লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। অর্থাৎ ২০১৮ সালের সমাপ্ত বছরে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী শেয়ার হোল্ডারদের নগদ ১২% লভ্যাংশ প্রদান করেছে। কোম্পানীর প্রতি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০/-টাকা। গত ১ বছরে প্রতিটি শেয়ার ৩৭.৭ টাকা থেকে ১১২.৩ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করে। ২০১৪ সালে পরিশোধিত মূলধনের উপর প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২০ টাকা প্রিমিয়াম সহ ৩০ টাকা প্রস্তাবিত মূল্যে ১:১ হারে ১ কোটি ২০ লক্ষ ৮ হাজার ৩০৪টি রাইট শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় কোম্পানীর বিনিয়োগ ২০১৬ সাল ছাড়া অন্য বছরগুলিতে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। ২০১৪ সালে কোম্পানীর বিনিয়োগ ছিল ২১৪২.৫৪ মিলিয়ন; ২০১৫ তে বিনিয়োগ বেড়ে হয় ২১৮২.৬০ মিলিয়ন; ২০১৬ তে বিনিয়োগ সামান্য কমে ২১৩৯.০৫ মিলিয়নে দাঁড়াই। আবার ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হয় যথাক্রমে ২১৭৪.৭৬ মিলিয়ন এবং ২২৪১.৪৬ মিলিয়ন।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে নগদ ১০% লভ্যাংশ প্রদান করেছে; ২০১৭ সালে ৮% নগদ ও ৪% বোনাস প্রদান করেছে। ২০১৪ সালে ১০% বোনাস সহ ১:১ হারে রাইট শেয়ার পূঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রদান করেছে।২০০৯ সালে পুঁজি বাজারে প্রবেশের পর থেকে প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সন্তোষজনক লভ্যাংশ প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এই জীবন বীমা কোম্পানী যে ব্যবসায়িক চেতনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্সে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কখনও হতাশ হতে হয়নি। উপরোক্ত বর্ণনা অনুসারে বলা যায় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর অবস্থা বেশ সন্তোষজনক।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ খ্রিঃ রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, কাকরাইল, সকাল ১০ ঘটিকায় বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয় এবং সকাল অনুমানিক ১১.৩০ ঘটিকায় এজিএম শেষ হয়। বর্তমান সময়ে অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের এজিএম থেকে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর এজিএম কিছুটা ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট নিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। বিএসইসি’র নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত কয়েক বছর যাবত কোম্পানী গুলি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভায় কোন গিফট প্রদান করছে না। এজন্য এজিএম গুলিতে উপস্থিতির হার একেবারে কম বলে ধারণা করা হয়। কোন কোন কোম্পানী ১০০ জনেরও কম সংখ্যক শেয়ার হোল্ডারগণের উপস্থিতিতে এজিএম শেষ করতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন কোম্পানী সভা শুরুর ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে সভা শেষ করে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বক্তব্য প্রদান করার পর প্রতিষ্ঠানের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা কোম্পানীর সচিব এজেন্ডা গুলি পাঠ করেন। এরপর একজন প্রস্তাবকারী ও একজন সমর্থনকারী উভয়ে ঐ এজেন্ডার প্রতি তাদের ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেন; আর হাউজের স্বল্প সংখ্যক উপস্থিতি ‘পাশ’, ‘পাশ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এজেন্ডা পাশ হয়। প্রতিটি এজেন্ডার পিছনে প্রায় ২ মিনিট সময় ব্যয় হয়। ফলে দশ থেকে পনের মিনিটের মধ্যেই বার্ষিক সাধারণ সভা সমাপ্ত হয়ে যায়। সভা শেষ করে কর্মকর্তাবৃন্দ এত দ্রæত বেরিযে যান যেন এটা পুলিশের ভয়ে চোর পালিয়ে যায়। কিন্তু রূাপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক সাধারণ সভার সমাপ্তির এর এধরণের চোর পালানো ভাব লক্ষ্য করা যায়নি। সব কিছু এখানে স্বাভাবিক ছিল। কোম্পানীর চেয়ারম্যান জনাব মাহফুজুর রহমান এমপি সভা শুরুর পর সাধারণ নিয়মে তার বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর এজেন্ডা পঠিত হয়, শেয়ার হোল্ডারগনের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়। বক্তব্য রাখেন জনাব সোহরাব হোসেন লিংকন, জনাব গোলাম ফারুক, বাবু বিশ^জিৎ ঘোষ, জনাব সৈয়দ লিয়াকত আলী ও জনাব জামিল আহমেদ সহ আরো কয়েকজন। প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান প্রত্যেক এজেন্ডা সম্পর্কে বক্তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত  হলে তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। এছাড়া হাউজ থেকে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে সেগুলিও উত্তর প্রদান করেন। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এজিএম উৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেবের বক্তব্যে কোন কৃত্তিমতা লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি ব্যবসায়িক সুলভ আলোচনা শেয়ার হোল্ডারগণের সাথে করেছেন। তিনি ব্যবসায়িক উন্নয়নে এত বেশী আগ্রহী ছিলেন যে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এজিএম শেষ করে তিনি পাশে অন্য একটি কোম্পানীর এজিএম চলে যান।

সার্বিক বিষয়ে আমার কাছে মনে হলো রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে। জনাব মাহফুজুজর রহমান এমপি এবং তাকে সহায়তাকারী আরো কয়েকজন বয়োজৈষ্ঠ্য পরিচালক সর্ব জনাব মোঃ আলমগীর, জনাব আবদুল মতিন, শেয়ার হোল্ডার ডিরেক্টর জনাব আমিনুর রহমান খান সহ বেশ কয়েকজন তরুণ পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ গোলাম কিবরিয়া সহ সকলের সম্বলিত প্রচেষ্টায় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দ্রæত অগ্রসর হবে বলে আশা করা যায়। এদের সকলের মধ্যে নৈতিক ও ব্যবসায়িক চিন্তা বিরাজমান।

জীবন বীমার সফলতার একটি অন্যতম দিক হল গ্রাহক সেবা। যেসব জীবন বীমা কোম্পানী সর্বোচ্চ গ্রাহক সেবা প্রদান করেছে, তাদের ধীরে ধীরে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সে কোম্পানীগুলি ব্যবসায় ক্ষেত্রে সফল হয়। জীবন বীমা কোম্পানীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ দাবী, মরনোত্তর দাবী হল খুব সংবেদনশীল বিষয়। কারণ এখানে সরাসরি টাকার বিষয় জড়িত থাকে বলে উহা অনেক সেনসেটিভ। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এই দুটি দাবী সফলভাবে পূরণ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বীমা গ্রহণ পদ্ধতি সহজকরণ, ঋণ প্রদান, সারভাইবেল বেনিফিটসহ যাবতীয় কাজকর্ম দ্রæত সময়ের মধ্যে সম্পাদন করেছে। গত বছর থেকে গ্রাহকদের পাওনা দ্রæত নিষ্পত্তি এবং গ্রাহকের হিসাবে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে BEFTN পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে। BEFTN পর পূর্ণনাম হল Bangladesh Electronic Funds Transfer Network।. BEFTN আধুনিক পেমেন্ট সিষ্টেম অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে কার্যকর উপাদান। ইহা বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পেমেন্ট সিস্টেম যা আন্ত:ব্যাংক তাহবিল হস্তান্তর পদ্ধতিতে সহায়তা করে। এই ইলেট্রনিক ফান্ড হস্তান্তর নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংককে সংযুক্ত করার মাধ্যমে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সেবার নিশ্চয়তা প্রদান করছে এবং ব্যাংকের সকল গ্রাহক ও ব্যাংক সেবার বাইরে গ্রাহকের সুবিধা গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ইঊঋঞঘ বিভিন্ন ধরণে পেমেন্ট যেমন-বন্ধকী পেমেন্ট, লোন পেমেন্ট, বীমা প্রিমিয়াম, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, ট্যাক্স পেমেন্ট, সরকারী লাইন্সেস এবং ফি ইত্যাদি পরিচালনা করে। অত্যাধুনিক এই ব্যবস্থাটি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের গ্রাহকদের সেবা প্রদানের জন্য গ্রহণ করেছে। স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং সাউথ ইষ্ট ব্যাংক এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাথে কাজ করছে।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ মূল্য ২০১৪ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ যথাক্রমে ১০.৫৯ টাকা, ১১.৮৬ টাকা, ১৩.১৮ টাকা, ১৪.২৬ টাকা এবং ২৬.২১ টাকা। শেয়ার প্রতি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। উহা ২০১৪ সালে ১.০৮, ২০১৫ সালে ০.৯৫, ২০১৬ সালে ১.৩৫, ২০১৭ সালে ১.১২ এবং ২০১৮ সালে ১.২৫ টাকা হয়েছে। কোম্পানী ব্যবস্থাপনা ব্যয় বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালে বেশী করেছে; যা টাকার অংকে ৯২০.৩৭ মিলিয়ন। এই ব্যয় মোট প্রিমিয়াম আয়ের উপর ৪২.৬৫%। তবে মোট প্রিমিয়াম আয়ের উপরে সবচেয়ে বেশী হার খরচ করেছে ২০১৫ সালে। এ বছর ৪৫.৫০% ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, এ বছর কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বীমা আইনে অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৪৭,১৬,২৫৪/-টাকা কম হয়েছে। ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনা কোম্পানীর জন্য শুভ কর। কিন্তু কোম্পানীর স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ধারণ করতে হলে ঐ কোম্পানীতে কর্মরতদের কি পরিমাণ বেতন ভাতা দেয়া হয় তা ভাল করে যাচাই করতে হয়। মনে রাখতে হবে কোম্পানীর কর্মরতদের ভাল বেতন ভাতা প্রদান করলে বোঝতে হবে কোম্পানীর উন্নতি হয়েছে। কোম্পানী যদি গ্রাহকদের ভাল সেবা প্রদান করে তাহলেও বোঝা যায় যে, এটা মান বজায় রাখতে পেরেছে।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মৃত্যু দাবী পূরণ করে ২০১৮ সালে; যা টাকার অংকে ছিল ৩২.৯৭ মিলিয়ন, অথচ ২০১৪ সালে উহা ছিল ২৩.৫২ মিলিয়ন। আবার মেয়াদ পূর্তি দাবীও সবচেয়ে বেশী নিষ্পত্তি করেছে ২০১৮ সালে; যা টাকার অংকে ছিল ৪৭২.০৫ মিলিয়ন। অথচ ২০১৪ সালে উহা ছিল ২৪৮.১১ মিলিয়ন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে মেয়াদপূর্তি দাবী নিষ্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দাবী নিষ্পত্তির মধ্যে রয়েছে সারভাইভেল, পলিসি বোনাস, প্রভৃতি। এসব বিভিন্ন দাবী নিষ্পত্তিও ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালে মোট প্রিমিয়াম হারে বেশী। ২০১৪ সালে মোট প্রিমিয়ামের ৪৮.৬০% বিভিন্ন দাবী নিষ্পত্তি করেছে কিন্তু ২০১৮ সালে বিভিন্ন দাবী নিষ্পত্তি হয়েছে মোট প্রিমিয়ামের ৫৩.৬৯%। উল্লেখ্য যে ২০১৪ সালে মোট প্রিমিয়াম আয় ১৭৫২.৩২ মিলিয়ন ছিল যা ২০১৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২১৫৭.৭৬ মিলিয়ন।

কোম্পানীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের যথাযথ নেতৃত্বের কারণে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ ক্রমান্বয়ের এগিয়ে যাচ্ছে। এদের মনোভাব মার্জিত ব্যবসায়িক। বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের কোন কৌশল পরিচালকবৃন্দ বা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ বা চেয়ারম্যানের আচরণে বা দেহ ভাষায় পরিলক্ষিত হয়নি। বরং তাদের বেশী আত্মবিশ^াসী এবং সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশি বলে মনে হয়েছে। উল্লেখিত বর্ণনা অনুসারে জীবন বীমা কোম্পানী সার্বিক অবস্থা বেশ সাউন্ড বলা যায়। যদিও বর্তমানে পুঁজিবাজারে প্রতিটি শেয়ার দর ১ বছরে সর্বোচ্চ দর থেকে অর্ধেকেরও বেশী কমেছে তথাপিও প্রত্যাশা রাখা যায় কোম্পানীর যোগ্য নেতৃত্ব বিনিয়োগকারীদের বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তীতে এর লভ্যাংশের হার বৃদ্ধি করে শেয়ার প্রতি দর স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসবে। তবে উপস্থিত কিছু বিনিয়োগকারী নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের উপর জোর দিয়েছেন। আমরা আশা করি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী কর্তৃপক্ষ বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিচেনা করবে।

লেখক:  প্রেসিডিয়াম মেম্বার, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি  ও প্রবন্ধকার।

About arthonitee

Check Also

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধার আবেদনের সময় বাড়ল

ঋণখেলাপিদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিতে নতুন করে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *