প্রচ্ছদ / মতামত / ধর্ষণ এবং অামাদের দায়

ধর্ষণ এবং অামাদের দায়

হৃদয় তালুকদার:
বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে অালোচিত একটি প্রসঙ্গ ধর্ষণ। দিন দিন যে হারে ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে তাতে এ পৃথিবী অার কারোর জন্যই বাসযোগ্য থাকবেনা।
ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে অনেক নারীকেই। এটা নতুন কোন বিষয় না হলেও সম্প্রতি এটি লাগামছাড়া পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ধর্ষণ!তাও অাবার লাগামছাড়া!! মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে নারী পুরুষ উভয়কেই পাঠিয়েছেন।কিন্তু পৃথিবী হয়ে যাচ্ছে নারীর জন্য বাসের অযোগ্য। শুধু নারীর জন্যই নয় শিশু,বৃদ্ধা সকলের জন্যই কেমন যেন বিষময় হয়ে উঠছে চারপাশ।
শিশু ধর্ষণ,বৃদ্ধা মহিলা ধর্ষণ এসব হতভম্ব বিষয়গুলো বাংলাদেশের ইস্যুতে চরম অাকার ধারণ করেছে। চলন্ত বাসে,রাস্তাঘাটে,স্কুলে,কলেজে কোথাও নিরাপত্তা নেই। শিক্ষকের কাছে ছাত্রী, মাদ্রাসার হুজুরের কাছে শিশু, এমনকি বাবার কাছে কন্যাও নিরাপত্তাহীন এমন খবরও মিডিয়াতে এসেছে।
যৌন নিপীড়ন এর বলি হয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত। তার মানে মাদ্রাসাও নিরাপদ নয়। তাহলে মেয়েরা কোথায় যাবে?
বহুদিন থেকে কট্টরপন্থী কিছু মৌলভী দাবি করে অাসছেন অশালীন পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী। শুধু তারাই নন,ধর্মান্ধ অনেকেই দাবি করে থাকেন ধর্ষিতার পোশাক এবং অাধুনিক সমাজের মেয়েদের। সব দোষ হয় ধর্ষিতার।মিডিয়াতে ধর্ষিতার ছবি অাসে। অনেক মন্তব্য হয়।বিভিন্ন কায়দায় ধর্ষিতার উপরে দায় চাপানো হয়।
রক্ষনশীল সমাজের মেয়েরা মাদ্রাসায় পড়তেই বেশি অাগ্রহী। সেখানেও ধর্ষণ বাসা বেধেছে।
ধর্ষণের জন্য যদি পোশাক দায়ী হয়ে থাকে তবে ছোট্ট শিশুটির ধর্ষণ কিসের জন্য দায়ী? বোরকা পরিহিতা পর্দার অন্তরালে থাকা নারীটি কেন ধর্ষিতা হচ্ছেন? বৃদ্ধা মা টি নিশ্চয়ই অাটসাট পোশাক পরেন না। তবে তিনিও কেন রেহাই পাচ্ছেন না? অনেক জ্ঞানীরা অাবার ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পতিতালয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সাফাই গাইছেন। তাদের নিজেদের চারিত্রিক এবং মানসিক চরিত্র এতেই কিছুটা পরিষ্কার হয়। পোশাক অাশাকের দোষ,পতিতালয়ের স্বল্পতা এসব কোন কিছুই ধর্ষনের জন্য দায়ী নয়।ধর্ষনের দায়ভার কখনোই রাষ্ট্র অস্বীকার করতে পারেনা। একটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ লজ্জার মুর্তি হলো ধর্ষন। যে দেশে মানুষ নিরাপদ নয় সেই দেশ কিভাবে মাথা উচু করে দাড়াবে?
ধর্ষণকে উস্কে দিচ্ছেন কিছু জ্ঞানপাপীরা। কিছু কট্টরপন্থীরা,কিছু অন্ধ অালেমরা।তাদের বক্তব্যে যত বিধিনিষেধ সবই নারীর জন্য। পুরুষের সাত খুন মাপ। পুরুষের জন্য কোন বিধানই যেন নেই।নারী পর্দা করলোনা,এখানে যাচ্ছে,সেখানে যাচ্ছে এসব নিয়েই কথা বলতে জানেন তারা।একটা ধর্ষণের জন্য কতখানি উস্কানিমুলক এসব বক্তব্য তা অনুমান করা উচিত।

নারীর অধিকার,নারীর মর্যাদা নিয়ে কেউ কথা বলতে গেলেই তাকে নিয়েও কটুবাক্য করা হয় অহরহ। অাচ্ছা নারী বাদেও শিশু ও পুরুষ কেন ধর্ষিত হচ্ছে। মাদ্রাসার হুজুর তো ছাত্রকে দিয়ে নিজের হীন চরিত্রের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে।
অাসলেই ধর্ষণের জন্য অামরাও কম দায়ী নই। ঈশ্বর থাকেন ওই দুরে,ভদ্রপল্লীতে। অামরা ভদ্রলোকেরা এক একজন এমনই ঈশ্বর হয়ে গেছি যে,সমাজের ভালোমন্দ দেখতেই পাইনা। অাশেপাশের পরিবেশ কতখানি বিষাক্ত তা ঠাওর ই করতে পারছিনা। অামাদের সারাটাজীবন শুধু নিজের সংসার অার অায় রোজগারের ধান্দায়। চোখে কানে অামরা ঠুলি এটে বসে অাছি। পাশের বাড়ির এক মেয়ে ধর্ষিতা হয়,ইভটিজিং এর শিকার হয়, বাল্যবিবাহের যন্ত্রণায় পিষ্ট হয় অামরা দেখেও সব বোবা। এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন অার স্বার্থপর জাতি তো অামরা ছিলাম না। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তো শুধু নিজের প্রয়োজনের জন্য অাটকে থাকেনি। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম নিজের ছেলেকে কোরবানী করে দিয়েছিলেন দেশের জন্য। যা বাবা তোকে দেশের জন্য কোরবানী করে দিলাম। তবে অাজকের মায়েরা কেন অামাদের ভেড়া বানিয়ে রাখছেন?
রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় অামাদের চোখে অনেক অনাচার,অত্যাচার অার অমানবিক দৃশ্য পড়ে। অামরা অন্ধের মতো হেটে চলে যাই।
যার ফলাফল চলন্ত বাসে ধর্ষণ।
কট্টরপন্থী অালেমরা যখন ধর্ষণের কারণ হিসেবে নারীর পোশাক কে দায়ী করে তখন অামরা নীরব থাকি।যার ফলাফল অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের লাশ!

অামরা শুধু সরকারের দিকে,প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকি। পারলে সমালোচনা করে, গালাগালি দিয়ে সরকারকে ভাসিয়ে দেই। কিন্তু মাথা খাটিয়ে এটা কখনো ভাবিনা সরকারের চেয়ে অামাদেরও দায় দায়িত্ব কিছু কম নয়।
অামরা ভদ্রলোকেরা নীরব থেকে থেকেই এইসব অপরাধগুলোকে বাড়িয়ে তুলছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজেরা ভুক্তভোগী না হই ততক্ষণ অামাদের হুশ হয়না।একটা অন্যায় হলে যে প্রতিবাদ করতে হয়,প্রয়োজনে অান্দোলন করতে হয় এটা অামরা মানতেই চাইনা।
একজনের মেয়ে ধর্ষিতা হলে অামরা তার পাশে দাড়াইনা।অান্দোলনে একাত্ম হইনা। তাই যখন নিজেদের ঘরের মেয়ের যখন এরকম কিছু হয় তখন অামরাও কাউকে সাথে পাইনা। যার ফল স্বরুপ ধর্ষনের মতো অপরাধ এককাট্টা বেড়েই চলেছে।অামরা মৌন থেকে সম্মতি দিচ্ছি। অপরাধকে সমুলেই বিনাশ করা উচিত।যখন বখাটেরা উত্যক্ত করে তখন অামরা প্রতিবাদ করিনা। একটা অপরাধ থেকে অারেকটি অপরাধ জন্ম নেয়। চোখ দিয়ে দেখেও অন্ধ থেকেছি। রাস্তায় মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হয়েছে,বখাটেরা তাদের পথরোধ করে দাড়িয়েছে সমাজ নীরব থেকেছে। ফলশ্রুতিতে মেয়েগুলোর লেখাপড়াই বন্ধ হয়ে গেছে।মুল্যবোধ জিনিসটা জন্ম নেয় পরিবার থেকে। একটি শিশু সবসময় অাদেশ নির্দেশেই শিক্ষা নেয়না,শিক্ষা নেয় চারপাশের পরিবেশ থেকে।শিশু ও কিশোর বয়সে মানুষের চিন্তা ও চেতনা তৈরি হতে থাকে। সেক্ষেত্রে বড়দের চিন্তা ভাবনা ও কাজকর্মে সে প্রভাবিত হতে থাকে।যদিও অপরাধ প্রবণতার বিষয়টি ভিন্ন। প্রতিবাদের কথাটাই ধরে নিচ্ছি।অপ্রিয় হলেও সত্যি যে সব পরিবারই সংগ্রাম জিনিসটা বাচ্চাদের শেখাতে চান না। জীবন পথের অার উপার্জনের জন্য বাচ্চাদের যতটা খাটানো হয় সামাজিক অন্যায় বা অপরাধের সংগ্রাম বা প্রতিবাদ থেকে তাদের ততটাই বিমুখ করে রাখার চেষ্টা করা হয়।অথচ অামাদের চারপাশের পৃথিবীও অামাদের জীবনের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।চারপাশের পৃথিবীর ভালো দিকটাই অামরা খুজি।কিন্তু খারাপ দিকটা অামরা অাবিষ্কারও করতে যাইনা। অামাদের সকলের ওই একটিই টার্গেট।জীবনে বড় হতে হবে।টাকা উপার্জন করতে হবে। জীবনে বড় হবার পথে যে কত বাধা অাসে, কত স্বপ্ন যে ঝরে যায়, কত জীবন যে নষ্ট হয় তার হিসেবটা অামরা করতেই চাইনা। চারপাশের পৃথিবীকে বিষাক্ত রেখে একাকি নিজে বড় হবার মাঝে কোন মহত্ব নেই।
অামরা বিবেকের দংশনে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি।কিন্তু মুখ দিয়ে কোন অাওয়াজ করতে পারছিনা।অার এই করতে না পারাটাই অামাদেী সবচে বড় ব্যর্থতা।
যার হিসেবে শুধুমাত্র ৬ মাসে ৪০০ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের শিকার।

শুধুমাত্র এই বছরের চলতি জুলাই মাসে ধর্ষণের নিউজ অামি সংগ্রহ করতে পেরেছি

★অস্ত্রের মুখে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ,ভিডিও ধারণ
—-১ লা জুলাই ২০১৯(জাগো নিউজ ২৪ ডটকম)
★তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে মুখ বেধে ধর্ষণ
—-০৫ জুলাই ২০১৯(জাগোনিউজ ২৪ ডটকম)
★ওয়ারীর শিশুটিকে ধর্ষণের অাগে হত্যা করা হয়েছিলো
—-০৬ জুলাই ২০১৯(ডেইলি স্টার)
★পিরিয়ডের কথা বলেও রেহাই মেলেনি,ধর্ষণের পর রক্তাক্ত নারী শ্রমিক
—-০৬ জুলাই ২০১৯(প্রথম অালো)
★পড়া থেকে তুলে নিয়ে শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন মাদরাসা শিক্ষক
—-০৬ জুলাই ২০১৯(জাগো নিউজ ২৪ ডটকম)
★চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ,ধর্ষককে গণধোলাই
—-০৬ জুলাই ২০১৯(জাগোনিউজ ২৪ ডটকম)
★গৌরনদীতে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ
—-০৬ জুলাই ২০১৯ (দৈনিক ইত্তেফাক)
★ছোট্ট সায়মার মাথার ওপরেই ছিলো’ ধর্ষকের’
বাস
—০৮ জুলাই ২০১৯(প্রথম অালো)
★গলাচিপায় মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ,শিক্ষক গ্রেপ্তার
—-০৭ জুলাই ২০১৯(সমকাল)
★যৌন হয়রানীর সময় শিক্ষককে অাটক করলো শিক্ষার্থীরা
—০৮ জুলাই ২০১৯(প্রথম অালো)
★হবিগঞ্জে নৌকায় ধর্ষণের পর গৃহবধুকে হত্যা,স্বামীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
—-০৮ জুলাই ২০১৯(জাগোনিউজ ২৪ ডটকম)
★দেশে বেড়েছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা
-গত ৬ মাসে সারাদেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত শিকার হয়েছে ৫৩৭ জন,হত্যা করা হয়েছে ২০৮ জনকে।
অাশঙ্কাজনক এ পরিসংখ্যান দিয়েছে বেসরকারী সংগঠন শিশু অধিকার ফোরাম।যা গতবছরের তুলনায় গড় হিসেবে ৪১ শতাংশ বেশি।
—০৯ জুলাই (সময় নিউজ)
★প্রতিবেশির ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশু
—০৯ জুলাই(জাগো নিউজ ২৪ ডটকম)
★৬ মাসে প্রায় ৪০০ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার
—০৭ জুলাই ২০১৯(জাগোনিউজ ২৪ ডটকম)
তরুণীকে গণধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার
—০৯ জুলাই ২০১৯ (ইত্তেফাক)
★৩৮ দিন ধরে প্রতিরাতে পুত্রবধুকে ধর্ষণ করতো শ্বশুর
—৯ জুলাই ২০১৯(সময়ের কণ্ঠস্বর)
★কড়া নেড়ে ঘরে ঢুকে তিনজন মিলে ধর্ষণ
—১২ জুলাই(জাগোনিউজ ২৪ ডটকম)
★ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে অসংখ্য তরুণীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ,ভুয়া ডাক্তার গ্রেপ্তার
—১২ জুলাই(জাগরণ নিউজ. কম)
★চুয়াডাঙ্গায় ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ
—বাংলাভিশন ১২ জুলাই
★মহেশখালীতে ১৪ জন মিলে রাতভর তরুণীকে ধর্ষণ
—১২ জুলাই ২০১৯(সমকাল)
★সিরাজগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা,ইউপি মেম্বার গ্রেপ্তার
—২৮ মার্চ ২০১৯
★কক্সবাজারে গণধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ৩ জন অাটক
—১৩ জুলাই চ্যানেল অাই অনলাইন. কম
★রামগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ,যুবক অাটক
—১৩ জুলাই ইত্তেফাক
★বিয়াইয়ের ধর্ষণে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা
—১৩ জুলাই জাগো নিউজ ২৪ ডটকম
★ তরুণীকে তুলে নিয়ে জোরপুর্বক রাতভর ধর্ষণ
—১৩ জুলাই ২০১৯(নয়াদিগন্ত)
★বৃদ্ধের লালসার শিকার শিশু
—১৩ জুলাই ২০১৯(ইনকিলাব)
★প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ধর্ষণ,প্রধাণ অাসামী গ্রেপ্তার
১৩ জুলাই সময় সংবাদ
★মুখ চেপে ধরে ৭ বছরের ঘুমন্ত শিশুকে ধর্ষণ
—সময়ের কণ্ঠস্বর ১৭ জুলাই ২০১৯
★স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ,বাবা গ্রেপ্তার
—১৪ জুলাই ২০১৯(সময়ের কণ্ঠস্ব)
এছাড়াও অারো ধর্ষণের নিউজ অাছে।অামার পক্ষে এইগুলোই সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে সবাই পত্র পত্রিকা পড়েন।ধর্ষণের পরিমাণ কত সংখ্যায় দাড়িয়েছে তা কিন্তু সবারই ধারণা হয়ে গেছে।তাই নতুন করে হিসাব কষতে গেলাম না।

ধর্ষনের প্রতিবাদ করায় মা ও মেয়েকে ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে!কত বীভৎস রুপ হতে পারে একটি দেশের! বিচারহীনতার সংস্কৃতিও ধর্ষণের জন্য কম দায়ী নয়।অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সব ঘটনার সুবিচার কি পেয়েছি অামরা?পাইনি।ধর্ষণ বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ।

সরকার যুগোপযোগী অাইন করলেও ধর্ষণ কমানো যাচ্ছেনা।দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।দোষ অামাদেরও।অামরাও ধর্ষণের কারণ খুজতে গিয়ে নানানরকম মন্তব্য করে ধর্ষককে পার পেতে সহযোগিতা করে ফেলি,তার অপরাধ কে হালকা করে ফেলি। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারী থাকা সত্বেও অত্যন্ত দুর্ভাগ্য নারীরাই অাজ বেশি অসহায়। কিভাবে এত সহজে ধর্ষণ করা হচ্ছে।নিমিষেই চলন্ত বাসে,রাস্তায়,নৌকায়,স্কুল,কলেজ সবখানেই।এতটা নিরাপত্তাহীন হলে জাতি অালোর মুখ দেখবে কি করে?বাবা মা কি কষ্ট করে মেয়েদের বড় করেন ধর্ষিতা হবার জন্য? একবিংশ শতাব্দীর ঝলমলে অালোর বাতির নিচেও অামাদের এত অন্ধকার!
ধর্ষকেরা কেন সহজেই জামিন পায়? কেন ধর্ষিতার মামলা সহজে থানায় নেয়া হয়না? কেন তারা প্রকাশ্যে ধর্ষণ করেও অামাদের নাকের ডগার ওপর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে?এসবের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারেনা।

ধর্ষণের অবশ্যই কারণ অাছে। সেটা হতে পারে মানসিক যৌন বিকৃতি।এটিই কারণ।বিকৃত চিন্তার লোকের দ্বারাই ধর্ষণ ঘটে। কিছু বিকৃত চিন্তার পুরুষ সবসময়েই মনের মধ্যে যৌন লালসা নিয়ে চলাফেরা করে। তারাই ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।কিন্তু ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে অনেকে পোশাক কে দায়ী করে ধর্ষককে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে থাকে।পোশাকের দোষ যারা দেয় তারাও এক প্রকারের ধর্ষক।
ধর্ষণ বৃদ্ধির অারো কারণ রয়েছে তা হলো ধর্ষককে অামরা রাজনৈতিক দলে বিবেচিত করে দেই।হয়তো ক্ষমতাসীন নয়তো ক্ষমতার বাইরের যেকোন দলে এদের অন্তর্ভুক্তিি করে দিই।রাজনৈতিক দলগুলোও একে অপরকে দোষী ঠাওরানোর জন্য এটা করে থাকেন।যার ফলে বিভিন্ন কায়দায় বিভিন্ন দোহাই দিয়ে অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে।তাই ধর্ষককে কেবল ধর্ষকই বলা উচিত। ধর্ষকের কোন দেশ নেই,ধর্ম নেই, নেই কোন দল।এরা শুধুই ধর্ষক।

কঠোর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমুলক পদক্ষেপ না নিলে ধর্ষণ কমানো যাবেনা।প্রতিদিনই একের পর এক ধর্ষণ হচ্ছে।ধর্ষণের বিচারে বিচারহীনতা বোধগম্য নয়।সরকারের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।ধর্ষকের অাইনী সহযোগিতা পাবার কোন অধিকার নেই।সে জাতির শত্রু।ধর্ষকের ঠিকানা কেবলই বন্দীদশা অথবা মৃত্যু।ধর্ষকের পরিচয় সে কেবলই ধর্ষক।তাই তাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে তার অপরাধ হালকা করার কোন সুযোগ নেই।
তাই জনগণের নিরাপত্তা,শিশুদের নিরাপত্তা,নারীদের নিরাপত্তার বাস্তবায়ন সরকারকেই করতে হবে।সরকার চাইলে অবশ্যই এটি সম্ভব।প্রচলিত অাইনের বাইরে গিয়ে ধর্ষণের জন্য দ্রুত ট্রাইবুনাল গঠন করা বর্তমান সময়ের দাবী হয়ে দাড়িয়েছে।
অার অামাদেরও উচিত সরকারকে সহযোগিতা ধর্ষক যত নিকটাত্মীয় হোক না কেন তার কুকর্মকে কখনোই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।তার জন্য কখনোই সহযোগিতার হাত বাড়ানো বিবেকবানের কাজ নয়।বরং তার শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা অামাদের করা উচিত।তাহলে সমাজ রেহাই পাবে ধর্ষণের হাত থেকে।তাই বর্তমান উন্নয়নশীল বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে অামাদের জাগ্রত হবার সময়।ঘুমিয়ে থাকার সময় নয় এখন।অন্যায়ের বিরুদ্ধে,ধর্ষণের বিরুদ্ধে অাওয়াজ তুলতে না পারাটা অামাদের চরম ব্যর্থতা।শুধু প্রচলিত গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বা টুইটারে নয়।অামাদের অাওয়াজ তুলতে হবে নিজের ঘর থেকে।শুরুটা হবে ঘর থেকে।তারপর গোটা সমাজ এবং রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ুক অামাদের জাগ্রত চেতনা।মাথা তুলি,অাওয়াজ তুলি।ধর্ষণ কে না বলি।অাসুন নতুন শিশুর জন্য এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলি।পৃথিবীটা অনেক সুন্দর।সবারই সুন্দরভাবে বাচার অধিকার এই পৃথিবীতে রয়েছে।তাই ধর্ষণের মতো জঞ্জালকে সরিয়ে সৌন্দর্যের পৃথিবীকে প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত করে তুলি।

About arthonitee

Check Also

ক্যাসিনো অর্থনীতি: প্রয়োজন আছে না নেই

ক্যাসিনো—সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বেশ আলোচিত বিষয়। বিষয়টির ব্যাপক বিস্তৃতি রীতিমতো সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। এর সঙ্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *